গম মাঝারি তাপমাত্রায় এবং কম আর্দ্র থেকে আধা-শুষ্ক অবস্থায় ভালো জন্মে।
ইহার চারা গজানো, বৃদ্ধি,দানা গঠন,পরিপক্কতা এবং পুষ্টিগুণের ব্যপকতা পরিবেশগত অবস্থার উপর নির্ভর করে।
গম একটি নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার ফসল। ইহা নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে এবং অব-উষ্ণঅঞ্চলে শীতকালে বা রবি মৌসুমে জন্মে।
ইহার বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য দৈনিক পরিমিত গড় তাপমাত্রা ১৫-২০° সেন্টিগ্রেড।
৩০-৩৫° সে. থেকে অধিক তাপমাত্রা ফসলের সাধারণ কার্যক্রমে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ইহা তীব্র ঠান্ডা অবস্থা সহ্য করতে পারে। গমের বীজ অংকুরোদগমের সময় ঠান্ডা সহ্য করতে পারে, তবে অংগজ বৃদ্ধির জন্য ১৫-২০° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা সর্বোত্তম ।
গম উৎপাদনের জন্য সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩-৪.৫ ° সেন্টিগ্রেড, পরিমিত তাপমাত্রা ২৫-° সেন্টিগ্রেড বং সর্বাধিক তাপমাত্রা ৩০-৩২° সেন্টিগ্রেড থাকা অপরিহার্য। উচ্চ তাপমাত্রায় দ্রুত বৃদ্ধি এবং কুশি গজানো সময়কালে কার্যকর কুশির সংখ্যা, বৃদ্ধিহার, ডগার উচ্চতা, শীষ খাটো সহ-স্পাইকলেট সংখ্যা, নিষেক, দানার ওজন এবং গুণগতমান কম হয়।
মাটির উচ্চ আর্দ্রতায় গম বীজের অংকুরোদগম, চারার বৃদ্ধি, দানার গঠন এবং বৃদ্ধি ভালো হয়।
যদিও ইহা খরা সহিষ্ণু , তবে ডগার বৃদ্ধি থেকে শীষ আসার সময়ে অতিরিক্ত আর্দ্রতার প্রতি সংবেদনশীল।
গম পাকার সময়ে শুস্ক রোদ্রজ্জোল দিন এবং রাতে অপেক্ষকৃত ঠান্ডা দানার আকার এবং গুনগতমান বৃদ্ধিতে সহায়ক।
ইহার বৃদ্ধিকালে ৫০০-৮৭৫ মি.মি. বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন এবং জাত ও মৌসুমভেদে মোট পানি প্রয়োজন হয় ৪৫০-৫৫০ মি.মি.। চারা গজানোর থেকে দানা গঠনের সময় প্রতিদিনের ব্যয়িত পানির ব্যবহার ১.৭ -৮.৭ মি.মি., ফুল আসা থেকে দানা জমাট বাধা পর্যায় পর্যন্ত ব্যয়িত পানির ব্যবহার অধিক হয় যা ৬.২ মি.মি.।
যে সমস্ত এলাকায় পানি সরবরাহ সীমিত, সেসব এলাকার জন্য গম ফসলের সংকটপূর্ণ অবস্থার তথ্য জানা আবশ্যক।
ঠান্ডা আবহাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দেরীতে বীজ বপন করলে জমির আর্দ্রতা কমে যায় ফলে চারার সংখ্যা কম হয়।